--

--

--

--

  • More Options
  • Sign Up
Saswata Saha
May 27, 20222 min read

তারা মন্দিরে বাজ পড়া

বাংলা ১২৭৫ সালের গ্রীষ্মকাল,চারদিকে প্রচণ্ড উত্তাপ। যেন গ্রাম গঞ্জ পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। গত কয়েক মাস ধরে একফোটা বৃষ্টি পড়েনি। এমনকি কালবৈশাখীও তেমনভাবে জমাট বাঁধেনি। প্রচণ্ড খরা চলছে বীরভূমের নানা স্থানে। খরা থেকে তারাপীঠ অঞ্চলও বাদ গেল না।বর্ষাকাল চলছে অথচ বৃষ্টির দেখা নেই। বৃষ্টির অভাবে সব চাষের ক্ষেত শুকিয়ে ফেটে ফালা ফালা হয়ে গেছে। মাঠের বীজধান মাঠেই শুকিয়ে গেল। ওই অবস্থায় চাষী এবং সাধারণগ্রামবাসীরা আতঙ্কে অস্থির হয়ে পরলো। সারা বছর কি খেয়ে বাঁচবে তাঁরা। এই দুশ্চিন্তায় সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। কোন উপায় না দেখে সবাই বামদেবের এর কাছে উপস্থিত হলেন। কাতর ভাবে বললেন, খ্যাপা বাবা বৃষ্টির অভাবে সবচাষবাস বন্ধ হয়ে গেছে। বীজধান পর্যন্ত বৃষ্টির অভাবে মরে গেল। বৃষ্টি না হলে আমরা যে সব না খেয়ে মরে যাব। তারামাকে একটু বুঝিয়ে বলো, যাতে বৃষ্টি হয়। আমাদের তারামা থাকতে, তুমি থাকতে আমরা কি সবাই উপোস করে মরবো? বামদেব হলেনকরুণার অবতার। তিনি গরীব চাষী ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের কথা শুনে অত্যন্ত বিচলিত হলেন। তিনি তাঁদের সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, তোমরা চিন্তা করো না। একটু দাঁড়াও আমি আসছি এই বলে তিনি মন্দিরে ঢুকে তারামাকে বৃষ্টির জন্য কাতর হয়ে প্রার্থনা জানাতে লাগলেন। কখনও আবার উগ্রভাব ধারণ করে মাকে বকাবকি করতে লাগলেন। একসময় উত্তেজিত হয়ে বললেন, তুই বেটি বসে বসে খাচ্ছিস আর তোর সন্তানরা উপোস করে মরছে।দাঁড়া তোর মাথায় বাজ ফেলবো ইত্যাদি... । সবাই সেদিন বামদেবের উগ্ররূপ দেখে একেবারে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। তাঁরা সেখানে আর দাঁড়াতে সাহস পেলেন না। ভয়ে ভয়ে তাঁরা নিজ নিজ বাড়ির পথ ধরলেন। বাকসিদ্ধ বামদেবের কথা তো মিথ্যে হবার নয়?
কিছুক্ষণের মধ্যেই একটুকরো কালো মেঘ দেখাদিল আকাশের এক কোণে। সেটাই দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ল তারাপীঠের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে। তারপর প্রচন্ড বেগে ঝড় বৃষ্টি শুরু হল। সাথে সাথে বিদ্যুতের প্রচন্ড ঝলকানিতে সমগ্র তারাপীঠ আলোকিত হয়ে উঠল, সেই সময়ই প্রচণ্ড শব্দে তারা মায়ের মন্দিরের চূড়ায় বাজ পড়ল। তাতে মন্দিরের এক অংশ ভেঙে পড়লেও মন্দিরের ভিতরে তারামায়ের ভোগমূর্তির কিন্তু কোনো ক্ষতি হলো না। বাজ পড়ার ভয়ানক শব্দেস্থানীয় লোকজন ছুটে এলেন মন্দিরে। একদিকে বৃষ্টির জন্য সকলের আনন্দ অন্যদিকে তারা মায়ের মন্দিরে বাজ পড়ার জন্য ভীষণ কষ্ট এই দুইয়ের মধ্যে সবাই এলেন তারামন্দিরে। তারা মায়ের মূর্তির কোনো ক্ষতি না হওয়ায় তাঁরা স্বস্তি পেলেন।কিন্তু মন্দিরে বাজ পড়ে মন্দিরের কিছু অংশ ভেঙ্গে যাওয়ার সবার মনে অশান্তির ভয় দেখা গেল। এরমধ্যেই বামদেব এলেন মন্দিরে। সকলেই আতঙ্কিত হয়ে তাঁর কাছে গেলেন। সকলেরই কৌতূহলী প্রশ্ন তারামা তাঁদের প্রতি রাগাম্বিত হন নি তো?বামদেব সন্তপ্ত হৃদয়ে সজল নয়নে তারা মায়ের চরণ কমলে পড়ে ক্ষমা চাইতে লাগলেন এই বাজ ফেলবার কথা বলার জন্য। কিন্তু তারা মায়ের প্রশান্ত উজ্জ্বল আনন্দময় মূর্তি দেখে বুঝলেন যে এই খরা বৃষ্টি ও বজ্রপাত তারামায়ের এক দিব্য লীলা। এটা ভবিতব্য। আগে থেকেই ঠিক হয়ে আছে। তিনি উপলক্ষ্য মাত্র।
তারামায়ের প্রিয়তম পুত্র বামদেবের বাকসিদ্ধ প্রচারের জন্যই তিনি এই করুণাঘন লীলা ঘটালেন।
জয় তারা, জয় বামদেব।

4