--

--

--

--

  • More Options
  • Sign Up
Saswata Saha
May 27, 20223 min read

মহাভারতের খোঁজে।

ঘাটুশ্যাম -- দক্ষিণ ভারতের কিছু অঞ্চলে এবং সমগ্র গুজরাতে ঘাটুশ্যামে এর অনেক মন্দির আছে। সেখানে শ্যাম এর সঙ্গে বেশি পীড়িত নেই যত পীড়িত ঘাটুশ্যাম এর সঙ্গে। পীড়িতি কিরিতি জান নারে মন।

শ্রীকৃষ্ণ ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশে,এক অশ্বথ গাছের পাশে বারবারিকের পথ আগলে দাঁড়াল। জানিয়ে রাখি, মহাভারতে বারবারিকের উল্লেখ বেশি নেই । ব্রাহ্মণ দেখে বারবারিক করজোড়ে প্রণাম জানাল। শ্রীকৃষ্ণ জিজ্ঞেস করলেন, - কোথায় চলেছ বৎস? বারবারিক উত্তর দিল, - কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে যোগ দিতে। শ্রীকৃষ্ণ বললেন, - সে কি? তোমার সৈন্য সামন্ত নেই আর তুমি যাচ্ছ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে যোগ দিতে? বারবারিক তিনটে তীর দেখিয়ে বল্ল, - এরাই আমার সৈন্য, এরাই আমার সামন্ত। শ্রীকৃষ্ণ বললেন, - বাহ্, তা তুমি যদি একাই যুদ্ধ কর তবে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শেষ করতে তোমার কদিন লাগবে? বারবারিক উত্তর দিল, - কয়েক মুহূর্ত। শ্রীকৃষ্ণ মনে মনে হিসাব মেলালেন। ভীষ্ম বলেছিলেন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শেষ করতে তার লাগবে কুড়ি দিন, দ্রোনাচার্য্য বলেছিলেন পঁচিশ দিন, কর্ণ বলেছিলেন চব্বিশ দিন, অর্জুন বলেছিলেন আঠাশ দিন আর বারবারিক বলছ কয়েক মুহূর্ত! এবার শ্রীকৃষ্ণ জিজ্ঞেস করলেন কি ভাবে? বারবারিক বল্ল, - প্রথম এই তীরটা সকল শত্রুদের চিনে নেবে। দ্বিতীয় তীরটা সকল মিত্র কে চিনে নেবে আর শেষের এই তীরটা সকল শত্রুদের এক সঙ্গে গেঁথে ফেলবে। শ্রীকৃষ্ণ বললেন, - প্রমাণ দেখাও। বারবারিক বল্ল- কি করে প্রমাণ দেখাব? এখানে শক্র কোথায়? শ্রীকৃষ্ণ অশ্বথ গাছের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, - ধরো, এই গাছের পাতা গুল শক্র। বারবারিক তীর ধনুক নিয়ে মনসংযোগ করল আর শ্রীকৃষ্ণ এই সুযোগে অশ্বথ গাছের একটা পাতা ছিঁড়ে পায়ের তলায় রেখে দিলেন। বারবারিক তীর ছূঁড়ল। তীর সম্পূর্ণ গাছ ঘুরে শ্রীকৃষ্ণর পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকল। বারবারিক বল্ল, - ব্রাহ্মণ, আপনি পা সরান। শ্রীকৃষ্ণ জিজ্ঞেস করলেন, - কেন? বারবারিক বল্ল, - নিশ্চয়ই গাছের কোন পাতা আপনার পায়ের তলায় আছে। আপনি পা না সরালে তীর আপনার পা ভেদ করে চলে যাবে। শ্রীকৃষ্ণ পা সরালেন। বারবারিক শেষ তীর ছূঁড়ল। তীর সমস্ত পাতার সঙ্গেই শ্রীকৃষ্ণর পায়ের তলার পাতাটিও গেঁথে নিল। যা বোঝার শ্রীকৃষ্ণ বুঝেগেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, - তুমি কাদের দলে যোগ দেবে? বারবারিক উত্তর দিল, - যে দল দূর্বল, আমি সেই দলে যোগ দেব। এই যুদ্ধে পান্ডবদের সৈন্য সংখ্যা কম তাই পান্ডবদের হয়েই যুদ্ধ করব। শ্রীকৃষ্ণ বললেন,- খুব ভাল কিন্ত পরের দিন তো কৌরব দল দূর্বল হয়ে যাবে। তখন? বারবারিক বল্ল, - তখন গিয়ে কৌরব দলে যোগ দেব। এরপর শ্রীকৃষ্ণ বললেন, - তবেতো পরের দিন পান্ডবরা দূর্বল হবে। বারবারিক বলে ওঠে, - সেই দিন আবার পান্ডবদের হয়েই যুদ্ধ করব। এই বার শ্রীকৃষ্ণ বললেন, - এই ভাবে বার বার দল করলে, বৎস যুদ্ধ শেষে একমাত্র তুমি ছারা আর কেউ তো বেঁচে থাকবে না। বারবারিক চিন্তা করে দেখল ব্রাহ্মণ ঠিকই বলেছেন। জিজ্ঞেস করল, - তবে উপায়? শ্রীকৃষ্ণ বললেন,- একমাত্র উপায় তুমি যুদ্ধে যোগ দিও না। বারবারিক বল্ল, - সে কি করে হয় ব্রাহ্মণ, দূর্বল দলে যোগ দেবার জন্য আমি মা এর কাছে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ। তা ছারা আমি ক্ষত্রিয়। আমি যুদ্ধে যাব না, এটা হতেই পারে না। শ্রীকৃষ্ণ দেখলেন এই ভাবে একে নিরস্ত্র করা যাবে না আবার এ যুদ্ধে যোগ দিলে সত্যও প্রতিষ্ঠা হবে না। বললেন, - ঠিক আছে, যা ভাল বোঝ কর কিন্ত ভবতি ভিক্ষাঙ্গ দেহি। অর্থাত আমাকে ভিক্ষা দাও। বারবারিক বল্ল, - হে ব্রাহ্মণ, এই মুহূর্তে আমার কাছে কিছুই নেই, তোমাকে কি ভিক্ষা দেব? - শ্রীকৃষ্ণ বললেন,- তোমার মস্তক (মাথা)। বারবারিক বুঝতে পারল এ কোন সাধারণ ব্রাহ্মণ নয়। বল্ল,- আপনি কে? আপনার পরিচয় দিন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন,- আমি কৃষ্ণ। বারবারিক তন্ময় হয়ে দেখতে থাকল। বল্ল, - হে কৃষ্ণ, তোমার জন্য মরাই তো মোক্ষ লাভ। আমি আর এক মুহুর্ত দেরী করব না কিন্ত প্রভু আমার একটা অনুনয় ছিল। শ্রীকৃষ্ণ বললেন, - বলো। বারবারিক বল্ল, - আমি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ দেখতে চাই। শ্রীকৃষ্ণ বললেন, - তাই হবে। তোমার মস্তক আমি এমন উঁচু জায়গায় রাখব যেখান থেকে তুমি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ দেখতে পাবে আর এই ধরাধামে আমার মতো তোমারও ঘাটুশ্যাম রূপে পূজ হবে, তুমি যে আশীর্বাদ দেবে তা সম্পূর্ণ হবেই। বারবারিক সঙ্গে সঙ্গেই নিজের মস্তক কেটে শ্রীকৃষ্ণর হাতে তুলে দিলেন। গীতার প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে বারবারিক অন্যতম।
বারবারিক ছিলেন ঘটোৎকচের ছেলে, ভীমের নাতি।

2