--

--

--

--

  • More Options
  • Sign Up
Prateek Majumder
Jun 5, 20223 min read

🏵️🙏🏻|| শ্রীশ্রী মহিষমর্দিনী পুজো :: ২০২২||🙏🏻🏵️

কোনোও ঢাকের বাদ্যি নেই, নেই কোনোও মাইকে গুরুগম্ভীর মন্ত্রোচ্চারণ। নেই আলোকমালায় সেজে ওঠা মণ্ডপ, প্যান্ডেল। কিন্তু চুপিসাড়ে আরও একটি দুর্গা পুজো দিন ক্ষণ মেনে ঘটতে চলেছে আজ অর্থাৎ জামাই ষষ্ঠী থেকে তা বোধহয় অনেকেরই অজানা। অবশ্য দুর্গাপুজো না বলে বলা ভালো মহিষমর্দিনী পুজো। দুর্গাপূজা এবং বাঙালি এই দুটি শব্দ এখন একই কয়েনের দুটি পিঠের মতো। একটির সঙ্গে অন্যটির অস্তিত্ব ও সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি ম্লান হলেই বোধহয় পরিচয়হীনতায় ভুগবে একটা গোটা জাতি। কিন্তু সেটা বললে অর্ধেক বলা হবে। দুর্গা পূজা মানে আমরা শুধু বুঝি শরৎকালের শারদীয়া দুর্গোৎসব। হ্যাঁ, আপামর বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো বললে শরৎকালের শিউলির গন্ধমাখা পরিবেশে নতুন করে সেজে ওঠা। তবে আজ এখানে আমি একটি ভিন্ন ধরনের অন্যরকম দুর্গাপুজো তথা মহিষমর্দিনী পূজা সম্পর্কে বলবো।
• পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চুঁচুড়ার ধরমপুরে বিগত প্রায় সাড়ে-তিনশত বছর ধরে প্রতিবছর জামাই ষষ্ঠী থেকে শুরু হয়ে দশমী পর্যন্ত চলে বিশেষ এই মহিষমর্দিনী পুজো। এই মহিষমর্দিনী দেবীর নামানুসারেই সেই স্থানের নাম "মহিষমর্দিনী তলা"।
প্রায় ৩৫০ বছরের (মতান্তরে ৬০০ বছর) প্রাচীন এই মহিষমর্দিনী পুজো। জানা যায় প্রাচীনকালে এখানে একটি ছোটো মন্দির ছিল। সেখানেই দেবীর পূজা করা হত। কিন্তু বর্তমানে এখানে খুব সুন্দর একটি নাটমন্দির রয়েছে যার নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালে সম্পূর্ণ হয় (১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ এই নাটমন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়)। 

শ্রীশ্রী মহিষমর্দিনী পুজো



দেবী মহিষমর্দিনী দশভূজা, সিংহবাহিনী, মহিষাসুর নিধনে উদ্যতা। তাঁর দক্ষিণে দেবাদিদেব মহাদেবকে এবং বামে বিঘ্নহরতা সিদ্ধিবিনায়ক গণপতিকে অবস্থান করতে দেখা যায়। এই মহিষমর্দিনী দেবী জামাই ষষ্ঠী থেকে শুরু করে দশমী পর্যন্ত অত্যন্ত জাঁকজমক পূর্ণভাবে এখানে পূজিতা হন। মূল প্রতিমার একটি ছোট প্রতিকৃতি মন্ডপে সারাবছর প্রতিষ্ঠিত থাকে প্রত্যহ নিত্য পূজার জন্য। এছাড়াও সর্বদক্ষিণে শ্রী বজরংবলী হনুমানজীর একটি মূর্তি দেখা যায় মন্দির প্রাঙ্গণে।

বাংলায় বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব শিথিল হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চুঁচুড়ার এই স্থানটিতে হিন্দুধর্মের অন্যতম দেবতা ধর্ম ঠাকুরের পুজো করা হত। সেই ধর্ম ঠাকুরের নামানুসারেই পরবর্তীকালে চুঁচুড়ার এই স্থানটির নাম হয় "ধরমপুর"। তারপর শাক্তধর্মের প্রভাবে এখানকার মানুষজন শক্তিসাধনায় আগ্রহী হয়ে উঠলে প্রায় সাড়ে-তিনশত বছর আগে এখানে শুরু হয় মহিষমর্দিনী পূজা। পূজার শেষে এখন গঙ্গায় প্রতিমা নিরঞ্জন করা হলেও আগে তা করা হত স্থানীয় পুকুরে। জানা যায় সারাবছর সেই পুকুরটি শুকনো থাকলেও দশমীর দিন নিজে নিজেই সেটি ভরে যেত। আগে এখানে পূজার সময় মহিষ বলিও হত, তারপর সেই মহিষ বলি বন্ধ হয়ে শুরু হয় শুধুমাত্র ফল বলি, কিন্তু বর্তমানে মায়ের স্বপ্নাদেশক্রমেই কোনোরকম বলি হয় না এখানে। শোনা যায় শ্রী নরেন চ্যাটার্জী নামক একজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি স্বপ্নাদেশটি পেয়েছিলেন। এবং তাঁর সেই স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর থেকেই সমস্ত রকম বলিদান প্রথা বন্ধ হয়ে যায় এখানে। সারা বছর আমরা আপামর বাঙালিরা বাংলার তথা বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব শারদীয়া দূর্গাপূজার জন্য চাতক পাখির মতো হা-পিত্যেস করে বসে থাকলেও গ্রীষ্মের এই তীব্র দাবদাহে জ্যৈষ্ঠের এই প্রতি জামাই ষষ্ঠীতে প্রতি বৎসর নতুন ভাবে নতুন রূপে নতুন আঙ্গিকে চুঁচুড়ার এই মহিষমর্দিনী তলায় পতি শিব ও পুত্র গণেশের সাথে মায়ের আগমন ঘটে মহিষমর্দিনী রূপে। বিশেষ এই পুজো উপলক্ষে বহু দূর দূরান্ত থেকে অসংখ্য ভক্তদের সমাগম দেখা যায়।
🌸🌺🙏জয় মা মহিষমর্দিনী 🙏🌺🌸

পুজোর পরিবার - Pujor Poribar

5